ঈশ্বরদীতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাইসাইকেল পেল ওরা

নতুন বাইসাইকেল পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্কুলছাত্রীরা। রোববার এক অনুষ্ঠান আয়োজন করে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাদের হাতে বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদন: "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  আমাকে বাইসাইকেল দিয়েছেন, আমি তা নিয়ে স্কুলে যাব।" প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপহার হিসেবে বাইসাইকেল পেয়ে এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিল স্কুলছাত্রী কুমারী কালী দাসী রানী। শুধু রানী নয়, তার মতো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আরও নয়জন শিক্ষার্থীর হাতে রোববার দুপরে এসব বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া এই সম্প্রদায়ের আরও ১৪৯ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে শিক্ষাবৃত্তি ।

উপজেলা পরিষদে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ উপহার পেয়ে তারা খুশি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাওয়া উপহার রোববার দুপরে আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ১৫৯ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন শিক্ষার্থীকে একটি করে বাইসাইকেল এবং ১৪৯ শিক্ষার্থীকে আড়াই থেকে চার হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তির দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পাওয়া দাশুড়িয়া ইউনিয়নের দরগা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী কুমারী পূজা রানী জানায়, প্রতিদিন তাকে দুই কিলোমিটার হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এত দিন অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। প্রায় দিন নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছা সম্ভব হয়নি। তবে সাইকেল পেয়ে তার সুবিধা হয়েছে। এখন সাইকেল চালিয়ে সময়মতো বিদ্যালয়ে যেতে পারবে।

সাইকেল পাওয়ায় একই রকম অনুভূতি ব্যক্ত করে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও হরিজন সম্প্রদায়ের রিপা ও মায়া। বিনা মূল্যে সাইকেল পাওয়া যাবে, তা ভাবতেই পারেনি তারা।

শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া হরিজন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী সুব্রত ঘোষ বলেন, তাঁরা বরাবরই অবহেলিত ছিলেন। এই প্রথম কোনো সহযোগিতা পেলেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ সহযোগিতা তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

বিতরণ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার ও সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিউলী আহমেদ।

নির্বাহী কর্মকর্তা পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এ শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বাইসাইকেল ও শিক্ষা উপকরণ দিয়েছেন তাঁরা। ফলে এই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার আগ্রহ বাড়বে  ঝোড়ে পড়াও কমবে বলে মনে করছেন তিনি।

দরগা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কয়েকজন ছাত্রী বাইসাইকেল পেয়েছে। ছাত্রীরা কষ্ট করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করত। এখন আর তাঁদের কষ্ট করতে হবে না। নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যালয়ে আসতে পারবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ উপহার পেয়ে সবাই খুশি। এই উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন