
তরুণ অভিনেত্রী আশা চৌধুরী। ছবি:সংগৃহীত
বিনোদন সংবাদ: বেশ কয়েক বছর ধরে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করলেও প্রধান চরিত্রে সুযোগ পাননি আশা। তাঁর স্বপ্ন ছিল নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন, অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেবেন। স্থায়ী হবেন এ জগতে। তরুণ অভিনেত্রী আশা চৌধুরীর সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। সোমবার দিবাগত রাতে ট্রাকের ধাক্কায় চিরতরে স্তব্ধ হলেন আশা, নিভে গেল তরুণ এই অভিনেত্রীর জীবনপ্রদীপ।
গতকাল রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তরুণ অভিনেত্রী আশা চৌধুরী। টেকনিক্যাল মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় তিনি মোটরবাইক থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। তাঁর মাথা থেঁতলে যায়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা
গেছে, গতকাল রাতে বোর্ড বাজার এলাকা থেকে ফিরছিলেন এই অভিনেত্রী। সেখানে
তাঁদের নিজেদের বাসার কাজ চলছে। সেটা দেখভাল করে ফেরার কথা ছিল তাঁদের
রূপনগর আবাসিক এলাকার বাসায়। সেই ফেরা আর হলো না আশার।
আশার বাবা আবুল
কালাম মেয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন। ফোনে কথা বলতে পারলেন না তিনি। শহীদ
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে রয়েছে লাশ। সেখান থেকে কথা বললেন নির্মাতা
রোমান রুনী।
সর্বশেষ ২ জানুয়ারি এই নির্মাতার নাটক ‘দ্য রিভেঞ্জ’-এ অভিনয় করেছেন আশা। রোমান বলেন, ‘গতকাল রাত দেড়টার দিকে টেকনিক্যাল এলাকার সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। পেছন থেকে একটি ট্রাকের ধাক্কায় প্রায় ২০ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে আশা। সঙ্গে সঙ্গে দারুস সালাম থানার পুলিশ এসে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তখনই জানান ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
প্রায় চার বছর আগে আশার টেলিভিশন নাটকের অভিনয়ে আসা। অভিনয়কেই সে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছিলেন। শিল্পী হিসেবে বিটিভির তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নায়িকা নয়, একজন পেশাদার অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা ছিলেন তাঁর একমাত্র অনুপ্রেরণা। সেভাবেই শৈশব থেকে তিনি নিজেকে তৈরি করছিলেন।
এই অভিনেত্রী মারা যাওয়ার দুই দিন আগে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। নাটকে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন সালাহউদ্দিন লাভলু এবং আনিসুর রহমান মিলন।
নাটকটির নির্মাতা রোমান রুনী জানান,
আশার একটা স্বপ্ন ছিল প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার। তাঁর অভিনয় দক্ষতার কারণে
সেই সুযোগ তিনি দিয়েছিলেন। তিনি যখন তাঁকে গল্পটি দিয়ে জানান, তিনিই
প্রধান নায়িকা। তখন চরিত্রটি ঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি টানা এক
সপ্তাহ ধরে পরিশ্রম করেছেন। নিজে থেকে সালাহউদ্দিল লাভলু এবং আনিসুর রহমান
মিলনের সঙ্গে গল্প নিয়ে বসেছিলেন। রুনী বলেন, ‘নাটকের প্রতিটা শর্ট শেষে
আশা সবাইকে জিজ্ঞাসা করেছে কেমন হয়েছে, ভালো না হলে সে আবার শর্ট দিতে
চাইত। কাজের প্রতি সে খুব সিরিয়াস ছিল। তার স্বপ্ন ছিল চলচ্চিত্র নিয়ে। সে
পথে এগোনোর মাঝেই সে মারা গেল।’
আশা চৌধুরীরা চার বোন। সে ছিল সবার
বড়। ঢাকার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলোজিতে
(বিইউবিটি) লতে ৭ সেমিস্টারে পড়াশোনা করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি পাবনা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁর লাশ হাসপাতালের মর্গেই আছে। সেখান থেকে তাঁদের রূপনগরের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে।
