ব্রাজিল ফুটবল দল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ব্রাজিল ফুটবল দল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

হাইতিকে ৭-১ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় খেলায় হাইতির মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। প্রথম খেলায় মরক্কোর সঙ্গে হতাশাজনক ড্রয়ে সমালোচনার মুখে পড়া ব্রাজিল-ভক্তদের জন্য এটি ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ সুযোগ। আর কাগজে-কলমে সেই সুযোগটা বেশ বড়ই। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস একেবারেই একপেশে।

বিশ্বকাপের প্রথম খেলায় মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হারে হাইতি। ফলে ‘সি’ গ্রুপে প্রথম জয়ের খোঁজে আছে দুই দলই। তবে শক্তির বিচারে দুই দলের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন।

হাইতির ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপের স্মৃতি বলতে ১৯৭৪ সালের আসর। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে এবার আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে ক্যারিবীয় দেশটি। বিপরীতে ব্রাজিল খেলছে নিজেদের ২৩তম বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সব আসরে অংশগ্রহণ এবং সবচেয়ে বেশি শিরোপার মালিকও তারা।

এখন পর্যন্ত তিনবার দেখা হয়েছে ব্রাজিল ও হাইতির। তিনটিতেই জিতেছে ব্রাজিল। শুধু জয়ই নয়, গোলবন্যাও বইয়ে দিয়েছে ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা। তিন খেলায় ব্রাজিল করেছে ১৭ গোল, বিপরীতে গোল হজম করতে হয়েছে মাত্র ১টি। দুই দলের প্রথম দেখা ১৯৭৪ সালে একটি প্রীতি খেলায়। সেবার ৪–০ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল। এরপর ২০০৪ সালে আরেক প্রীতি খেলায় হাইতিকে ৬–০ ব্যবধানে হারায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা।

সবচেয়ে স্মরণীয় খেলাটি হয় ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা প্রতিযোগিতায়। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত সেই প্রতিযোগিতায় গ্রুপ পর্বে হাইতির জালে ৭ গোল দেয় ব্রাজিল। খেলাটি শেষ হয় ৭–১ ব্যবধানে। সেদিন তিন গোল বা হ্যাটট্রিক করেছিলেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো। গোল করেছিলেন রেনাতো অগুস্তো, গ্যাব্রিয়েল বারবোসা ও লুকাস লিমারাও।

ব্রাজিল-হাইতি মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস

  • ১৯৭৪: ব্রাজিল ৪-০ হাইতি (প্রীতি খেলা)
  • ২০০৪: হাইতি ০-৬ ব্রাজিল (প্রীতি খেলা)
  • ২০১৬: ব্রাজিল ৭-১ হাইতি (কোপা আমেরিকা)

শুভ জন্মদিন ‘ফুটবল সম্রাট’ পেলে

স্পোর্টস ডেস্ক: ১৯৫০ সাল। বিশ্বযুদ্ধের দামামা শেষে প্রথম বিশ্বকাপ। আয়োজক লাতিনের দেশ ব্রাজিল। ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব তখনও অপরিচিত ব্রাজিলিয়ানদের কাছে। তবে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাদের অবিরাম। সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। পুরো দেশ অপেক্ষায় প্রথম বিশ্বকাপের। তবে মারাকানার ঐতিহাসিক ফাইনালে অঘটনের জন্ম দিয়ে বিশ্বকাপ ঘরে তোলে উরুগুয়ে। 

সেদিনের ফাইনালের পর সাও পাওলোর এক কিশোর তার বাবাকে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ব্রাজিলকে অন্তত একটা বিশ্বকাপ এনে দেবেন। সেই কিশোর ঠিকই কথা রেখেছিলেন। তবে একটি না, তিনটি শিরোপা এনে দিয়েছিলেন দেশকে। ফুটবল বিশ্বে অজস্র রথী-মহারথীদের ভিড়ে যাকে বিবেচনা করা হয় সর্বকালের সেরা হিসেবে। নাম তার পেলে। গতবছর পরপারে পাড়ি জমানো এই ফুটবল কিংবদন্তির ৮৩তম জন্মদিন আজ।

 ১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরের ট্রেস কোরাকয়েসের এক বস্তিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন পেলে। তাঁর মা-বাবা নাম রেখেছিলেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনের সঙ্গে মিল রেখে। পেলের পুরো নাম ‘এডসন অরান্তেস দো নাসিমেন্তো’। অবশ্য বস্তির বন্ধুরা পেলেকে চিনত ‘ডিকো’ নামে।

নাম এডিসনের সঙ্গে মিললেও পেলে ছিলেন খেলার জগতের মানুষ। সম্ভবত তাকে দেওয়া হয়েছিল ফুটবল খেলার সর্বোচ্চ গুণাগুণ। ফুটবলটা ব্রাজিলে ধর্মের মতই। মুখের কথা ফোটার আগেই সেখানে বাচ্চাদের সখ্যতা হয় গোলাকার ওই বলের সঙ্গে। সাও পাওলোর ছেলে পেলের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ব্যতিক্রম ছিল না। 

গলিতে ফুটবল খেলে খুব ছোট বেলাতেই দৃষ্টিকাড়েন পেলে। অর্থাভাবে অনুশীলনের জন্য বল কেনার অবস্থা নেই। পুরোনো মোজায় খবরের কাগজ মুড়িয়ে ফুটবল বানিয়ে খেলতেন। কিন্তু কাগজের সেই বলেই নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। তার এই প্রতিভা চোখে পড়ে যায় সান্তোসের গ্রেট ওয়ালডেমার ডি ব্রিটোর। পেলে জীবনের মোড় ঘুরে যায় তখনই। সে সময় পেলের বয়স ছিল ১৫ বছর। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সান্তোস ক্লাবে, যোগ দেন ‘বি’ টিমে। সহজাত প্রতিভা দেখিয়ে এক বছরের মধ্যেই  মূল দলে নিজের জায়গা করে নেন পেলে। আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

১৯৫৮ বিশ্বকাপেই বাবাকে দেওয়া কথা রেখেছিলেন পেলে। মারিও জাগালো, ভাভা, দিদি, গারিঞ্চাদের সঙ্গে কিশোর পেলে ব্রাজিলকে এনে দেন তাদের প্রথম বিশ্বকাপ। ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে তার গোল বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


১৯৬২ বিশ্বকাপটা জিতলেও তাতে খুব বেশি অবদান রাখা হয়নি পেলের। ইনজুরিতে মাঠের বাইরে ছিলেন বেশিরভাগ সময়। আর সত্তরে তো হাজির হয়েছিলেন ইতিহাসে সেরা দল নিয়ে। অলস্টার সেই দলে ছিলেন কার্লোস আলবার্তো, রিভেলিনো, জাইরজিনহোদের নিয়ে গড়া সেই ব্রাজিলকে একবাক্যের বিশ্বের সেরা দল মেনে নেন বোদ্ধারা। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত সেই আসরেও শিরোপা জেতেন পেলে।  

ক্যারিয়ারে এক হাজার ৩৬৬ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন এক হাজার ২৮৩টি। আর ব্রাজিলের জার্সিতে ৯২ ম্যাচে ৭৭টি গোল করেন তিনি। কদিন আগেই যে রেকর্ড ভেঙেছিলেন নেইমার।


অনেকেরই ধারণা, পেলে ইচ্ছে করেই ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে যাননি। তবে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। পেলের অনন্য ফুটবলশৈলীর কথা বিবেচনায় নিয়ে তাকে জাতীয় সম্পত্তি ঘোষণা করেছিল নিজ দেশের সরকার। আশঙ্কা ছিল, ইউরোপিয়ানদের কড়া ট্যাকেলের কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে তার ক্যারিয়ার।

কিংবদন্তি এই ফুটবলার পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন গত বিশ্বকাপের সময়ে। চিরবিদায়ের আগে দেখেছেন ব্রাজিলের হার। একরাশ কষ্ট নিয়েই বিদায় বলেছিলেন পৃথিবীতে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন