খামারি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খামারি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ভ্যাকসিন সংকট ও অপচিকিৎসায় দিশেহারা ঈশ্বরদীর খামারিরা,

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা থেকে ভ্যানে করে ৫ মাস ৩ দিন বয়সী অসুস্থ বাছুর নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে এসেছিলেন হেনা খাতুন ও তাঁর স্বামী আসলাম প্রামাণিক। বাছুরটির গায়ে চাকা চাকা দাগ, পায়ের গিরা ফোলা এবং শরীরে প্রচণ্ড জ্বর। খাওয়া-দাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছে সেটি। পারিবারিক খামারের তিনটি গরুর মধ্যে একটি ইতিমধ্যে বিক্রি করেছেন তাঁরা; এখন বাছুরটির এই অবস্থায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এই দম্পতির।

শুধু হেনা খাতুনই নন, পুরো ঈশ্বরদী উপজেলার খামারিদের কাছে এখন আতঙ্কের অপর নাম ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি)। ভ্যাকসিনের সংকট ও সময়মতো সুচিকিৎসার অভাবে অকালেই মারা যাচ্ছে বাছুর। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় পশু পালনকারীরা।

উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় পশুর হাট অরুণকোলার পাশে ‘রাকিব ডেইরি ফার্ম’ পরিচালনা করেন মারুফ হাসান। তিনি জানান, প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে এ অঞ্চলে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেলেও বর্তমানে তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অরুণকোলা এলাকার ২০-২৫টি খামারের প্রায় প্রতিটিতেই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গরু মারা যাচ্ছে। এতে দুধের উৎপাদন যেমন কমেছে, তেমনি চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। আক্রান্ত গরুর চামড়াও বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

সেখানে কথা হয় সাবেক খামারি সোলেমান আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, আক্রান্ত হলে পশুটি একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়, যা খামারিদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উপজেলার ডেইরি শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, ঈশ্বরদীতে বর্তমানে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার। এর মধ্যে ২০ থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় খামারি ও চিকিৎসকদের দাবি, গত এক মাসে অন্তত ২৫০টি গরু মারা গেছে, যার সিংহভাগই বাছুর।

হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী, কেবল জুলাই মাসের প্রথম ২০ দিনেই হাসপাতালে ২৫টি আক্রান্ত গরু আনা হয়, যার মধ্যে ১০টি বাছুর মারা গেছে। সরকারি খাতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৯-১০টি গরু মারা যাওয়ার কথা নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফারুক হোসেন জানান, ২০২১-২২ সালের দিকে বাংলাদেশে প্রথম এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। শুরুতে বড় গরু আক্রান্ত হলেও বর্তমানে তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তবে ৩-৬ মাস বয়সী বাছুরদের ইমিউনিটি কম থাকায় তারা দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।

ডা. ফারুক হোসেন জানান, বাছুর মৃত্যুর প্রধান দুটি কারণ হলো—সময়মতো টিকাদান না করা এবং গৃহপালিত পশুর অসুস্থতায় পল্লী চিকিৎসক বা ‘হাতুড়ে ডাক্তারের’ কাছে গিয়ে অপচিকিৎসার শিকার হওয়া। ভাইরাসজনিত এ রোগে যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও হাতুড়ে চিকিৎসকেরা তা প্রয়োগ করায় বাছুরের মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়ছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন