নদীর পানি বৃদ্ধি, আতঙ্কে বেড়ার চরাঞ্চলের মানুষ

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদীর পানি অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পাবনার বেড়া উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বেড়েছে। এতে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙন ও সম্ভাব্য বন্যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে নদীর পানি বাড়ার সময় উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চর কল্যাণপুর, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের খয়ের বাগান ও নেওলাইপাড়া এবং হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের চর নাগদাহ গ্রামের যমুনা বাজার এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়। সে সময় যমুনা বাজারের প্রায় ২০০টি দোকানঘরের জায়গা, একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা, নেওলাইপাড়া গ্রামের কিছু জমিজমা এবং চর কল্যাণপুর এলাকার বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

গত কয়েক দিন ধরে যমুনার পানি কিছুটা কমায় বর্তমানে ওই সব এলাকায় ভাঙন নেই বলে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

চর নাগদাহ গ্রামের ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। নদীভাঙনে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। এর মধ্যে আবার জুলাই-আগস্টে বন্যার আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে। এতে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।’

বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চর কল্যাণপুর এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সাবমেরিন ক্যাবল, বসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নদীতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

এদিকে জুলাই-আগস্টে দেশের কয়েকটি এলাকায় বন্যার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা তিনি পরিদর্শন করেছেন। নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন