ঈশ্বরদীতে করোনায় সংক্রমিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

 বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীর বীরমুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক নাসির আহমেদ করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্নাইলাইহে রাজেউন।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ঈশ্বরদীর নুরমহল্লায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে, ১ এক মেয়ে, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তিনি সাঁড়া মাড়োয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মরহুম ওসমান গণির ছেলে ও যুগান্তরের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি আলাউদ্দিন আহমেদের বড় ভাই।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পাঁচদিন (২৪ জুন) আগে করোনা পরীক্ষায় তিনি পজিটিভ হন। এরইমধ্যে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে ঈশ্বরদীর বাড়িতে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

নাসির উদ্দিন ঈশ্বরদীর একজন বিশিষ্টজন ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে শেষ বর্ষের ছাত্র থাকাকালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ৮ নম্বর সেক্টরে চুয়াডাঙ্গা ও যশোর সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি মাস্টার্স শেষ করে দেশে-বিদেশে চাকুরি করার পর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। অবসর নেওয়ার পর থেকে তিনি ঈশ্বরদীতে অবস্থান করছিলেন। তাঁর স্ত্রীও একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। একমাত্র ছেলে মুরাদ আহমেদ ফারুক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং একমাত্র কন্যা আইভি আহমেদ রুপম রাজশাহী বেতার ও বিটিভির তালিকাভুক্ত সঙ্গীত শিল্পী।

এদিকে আজ বুধবার সকালে তাঁর নামাজের জানাজা ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় গোরস্থান মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এরআগে সেখানে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।  এরপর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন