![]() |
| বাড়ির পাশে দুম্বা-ছাগলের খামার করেছেন ঈশ্বরদীর সোহেল হাওলাদার। নিজেই তা দেখভাল করেন। সম্প্রতি উপজেলার কাচারীপাড়া এলাকায়। |
নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীর সোহেল হাওলাদার (৩২) এক সময় ক্রোকারিজ পণ্যের ব্যবসা করতেন। এ জন্য প্রায়ই ভারতে যেতে হতো পণ্য আনতে। ২০১৬ সালে ক্রোকারিজ পণ্যের পাশাপাশি ভারতের রাজস্থান থেকে আনেন দুটি দুম্বা আর পাঁচটি ছাগল। সে সময়ে তৈরি করা সোহেলের দুম্বা ও ছাগলের ছোট খামারের পরিসর এখন বড় হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় ক্রোকারিজের ব্যবসা ছেড়ে সোহেল মন দিয়েছেন খামারে।
সোহেলের খামারটি উপজেলা সদরের পশ্চিম টেংরি কাচারি পাড়া মহল্লায়। বাড়ির পাশেই ফাঁকা জমিতে গড়ে তুলেছেন এই খামার। বর্তমানে সেখানে ৬টি দুম্বা ও ২০টি ছাগল আছে। খামার তৈরির পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৪০টি ছাগল ও ৯০টি দুম্বা বিক্রি করেছেন। প্রতি মাসে খামার থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ছাগল ও দুম্বা কেনাবেচা হচ্ছে। খামারে আছে ইন্ডিয়ান তোতাপুরি, হরিয়ানা, পাকিস্তানি বিটল ও ক্রস জাতের ছাগল। সোহেল এখন পরিকল্পনা করছেন উট পালনের।
আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চমাধ্যমিকের বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি সোহেল। ২০০৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর ব্যবসা শুরু করেন। উপজেলা সদর বাজারে ক্রোকারিজ পণ্যের দোকান দেন। পণ্য আনতে ২০১৬ সালে ভারতের রাজস্থান গিয়ে একটি দুম্বার খামার দেখতে পান। সোহেল বলেন, সেখানে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারেন। এরপর নিজে দুম্বার খামার করার পরিকল্পনা করেন। সে বছরই ৫ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে খামারের কাজে নামেন।
সোহেল বলেন, প্রথম বছরে রাজস্থান থেকে আনা দুম্বা দুটি ও ছাগল ১০টি বাচ্চা দেয়। এরপর থেকে খামারের পরিসর বাড়তে থাকে। বিদেশি জাতের ছাগল আর দুম্বার বিশেষ চাহিদা আছে এক শ্রেণির ক্রেতার। ফলে দুম্বার খামার বেশ লাভজনক।
লালন-পালনের বিষয়ে সোহেল বলেন, প্রাণীগুলোর রোগবালাই খুব কম হয়। প্রতিদিন খাবার খায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকার। সময়মতো ভ্যাকসিন দিলে ঠিকমতো বেড়ে ওঠে। প্রতিটি দুম্বা বছরে দুইটি করে বাচ্চা দেয়। তিন মাসে একটি বাচ্চার ওজন হয় ৩৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ লাখ টাকা।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, দুম্বা মরু অঞ্চলের প্রাণী হলেও বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বেশ মানিয়ে নিতে পারে। দুম্বা ও বিদেশি জাতের ছাগল পালনে লাভও বেশি। ফাঁকা স্থানে খামার করতে পারলে ভালো হবে।

